ফ্রিল্যান্স আউটসোর্সিং – যেভাবে শুরু করবেন!

ফ্রিল্যান্সিং/আউটসোসিং/ইন্টারনেটে কাজ করা সম্পর্কে শুনেছি।  এই সম্পর্কে জানতে চাই!

যখন কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান তাঁর নিজের বা প্রতিষ্ঠানের কাজ ইন-হাউজ না করে বাইরের কাউকে দিয়ে করিয়ে নেয়, তখন সেটি হচ্ছে আউটসোর্সিং। বিশ্বের বড় বড় কোম্পানি গুলো তাঁদের নিজেদের কাজ বাইরের দেশের প্রফেশনালদের কাছ থেকে আউটসোর্স করে। স্টিভ জবসের অ্যাপেলের ব্যাপারে নিশ্চই শুনে থাকবেন! অবাক করা ব্যপার হচ্ছে, আইফোন চিনের ফক্সকন নামক কোম্পানির কাছ থেকে আউটসোর্স করা। আর আউটসোর্সিং ব্যক্তিগত পর্যায়েও হতে পারে।  এখন আপনার মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, কেন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান গুলো অন্য কোম্পানি কিংবা ব্যক্তির নিকট থেকে আউটসোর্স করে? অনেক গুলো কারণ থাকতে পারে, যেমন… কোয়ালিটি কাজ প্রয়োজন, মজুরির হার কমানো, টিমে এক্সপার্ট লোক না থাকা, সময় সেভ করা, নিজের কাজের চাপ কমানো, রিস্ক ম্যানেজমেন্ট এবং নিত্য অফিস খরচ হ্রাস করতে এবং হায়ার অপচুনিটি কাজে লাগাতে আউটসোর্স করা হয়।

আর ফ্রিল্যান্সার হচ্ছেন এমন একজন ব্যাক্তি যিনি কোন প্রতিষ্ঠানের সাথে দীর্ঘস্থায়ী চুক্তি ছাড়া কাজ করেন। একটা উদাহরণ দেওয়া যাক, একটি প্রতিষ্ঠানের তাদের নিজস্ব ওয়েবসাইট ডিজাইন করা দরকার। ঐ ওয়েবসাইটটি ডিজাইনের জন্য তারা যদি একজন এমপ্লয়ি রাখতে চায় তাহলে অহেতুক প্রতি মাসে হাজার হাজার টাকা বেতন দিতে হবে। কারণ ওয়েব ডিজাইন শুধুমাত্র একবারই করা লাগবে। তাই ঐ প্রতিষ্ঠানটি তাদের ওয়েবসাইট ডিজাইনের জন্য এমন কাউকে খুঁজবে যে ভালো ওয়েব ডিজাইন করতে জানে। এখন আপনি যদি ঐ প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটটি চুক্তিভিত্তিকভাবে করে দেন তাহলে ঐ প্রতিষ্ঠানটি বাড়তি খরচ থেকে বেচে গেলো। এছাড়া অনেক বেশি সুবিধা পাবে। আপনি এই যে চুক্তিভিত্তিকভাবে কাজটি করে দিলেন এটাই মূলত ফ্রিল্যান্সিং। একজন ফ্রিল্যান্সারের যেমন রয়েছে কাজের ধরন নির্ধারনের স্বাধীনতা , তেমনি রয়েছে যখন ইচ্ছা তখন কাজ করার স্বাধীনতা। গতানুগতিক ৯টা-৫টা অফিস সময়ের মধ্যে ফ্রিল্যান্সাররা স্বীমাবদ্ধ নয় । ইন্টারনেটের কল্যাণে ফ্রীল্যান্সিং এখন একটি নির্দিষ্ট স্থানের সাথেও সম্পর্কযুক্ত নয়। আপনার যদি কোন কাজে দক্ষতা থাকে আর সাথে থাকে একটি কম্পিউটার এবং আর ইন্টারনেট সংযোগ তাহলে যেকোন জায়গাতে বসেই আপনি ফ্রিলান্সিং আউটসোর্সিং এর কাজগুলো করতে পারবেন। আউটসোর্স করে যারা কাজ করিয়ে নিতে চায় এবং যারা ফ্রিল্যান্সিং করতে চায় এই দুই পক্ষের যোগসূত্র ও সমন্বয় ঘটাতে প্রয়োজন হয় মার্কেটপ্লেসের যেমন ওডেস্ক, ফ্রিল্যান্সার এবং ইল্যান্স। এসব সাইটে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে আছে হাজার হাজার প্রজেক্ট, দক্ষতা থাকলে যে কেউ চাইলেই কাজ গুলো বিড করে নিয়ে করে দিতে পারেন।  এই প্রেজেন্টেশনটা দেখুন ক্লিয়ার হয়ে যাবে বিষয়গুলো!

ইন্টারনেট সম্পর্কে মোটামুটি জানি/ জানি না, আমি কি করতে পারবো

ইন্টারনেটে কোনো কাজ করতে হলে অবশ্যই কম্পিউটার ও ইন্টারনেটের বেসিক ব্যবহার জানা অত্যাবশ্যক। কম্পিউটারের বেসিক হিসেবে আপনাকে জানতে হবে এমএসওয়ার্ড, এমএসএক্সেল, পাওয়ার পয়েন্ট ইত্যাদি আর ইন্টারনেটে কিভাবে প্রয়োজনীয় তথ্য খুঁজে পেতে হয়, মেইলিং এবং ওয়েবসাইট ন্যাভিগেশন সম্পর্কেও জানতে হবে। ফ্রিল্যান্সিং করতে গেলে আরও একটা গুরুত্বপূর্ন বিষয় হচ্ছে কমিউনিকেশন। এর জন্য ইংরেজিতে দক্ষতাটাও দরকার। ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার শুরু করতে কাজ শুরু করতে চাইলেই সংশ্লিষ্ঠ বিষয়ে দক্ষতার প্রয়োজন সর্ব প্রথম, তবেই ফ্রিল্যান্সার হিসাবে কাজ করা সম্ভব। এজন্য আপনাকে প্রশিক্ষণ নিতে হবে। আর প্রশিক্ষণ নেওয়া আগে আপনাকে জানতে হবে কোন কোন কাজ অনলাইনে পাওয়া যায়, সেগুলো থেকে আপনাকে আপনার যোগ্যতা ও পছন্দ ফিল্ড বেঁছে নিতে হবে, কি কি জানতে হবে, ঐ ফিল্ডের ভবিষ্যৎ কি! মোটামুটি পরিশ্রমী হলে আপনি সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন অথবা ইমেইল মার্কেটিং কোর্স করতে পারেন। আর ইংরেজিতে যদি খুব ভালো হন তাহলে ব্লগিং ও অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করতে পারেন। আপনার যদি আঁকাআঁকি ভালো লাগে/ক্রিয়েটিভিটি থাকে তাহলে আপনি গ্রাফিক্স ডিজাইন করতে পারেন। আবার আপনার যদি গ্রাফিক্স ডিজাইনের বেসিক নলেজ থাকে তাহলে আপনি ওয়েব ডিজাইন শিখতে পারেন। এছাড়াও আপনি ওয়েব ডেভেলপমেন্ট এবং সিএমএস ভিত্তিক কোর্স ওয়ার্ডপ্রেস থিম ডেভেলপমেন্ট শিখতে পারেন।

ফ্রিল্যান্সিং করতে ইংরেজিতে দক্ষ হতে হবে কি? 

ফ্রিল্যান্সিং আউটসোর্সিং পেশায় আপনাকে কাজ করতে হবে, বাহিরের দেশের বায়ার কিংবা ক্লায়েন্ট অথাব কোন কোম্পানির সাথে, সেক্ষেত্রে কমিউনিকেশন খুব ই জরুরী একটা বিষয়।  নিজেকে যোগ্য প্রমাণ করে কাজ পেতে নিয়মিত তাদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করতে হবে, কাজ পেতে তাদেরকে কনভিন্স করতে বিভিন্ন সময় মিটিং করতে হবে অনলাইনে।  এ জন্য ইংরেজি জানা অবশ্যক এবং ইংরেজিতে দক্ষতা থাকা ফ্রিল্যান্স আউটসোর্সিং প্রফেশনের আসার প্রথম শর্ত।   এছাড়াও যারা বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখির কাজ করতে চান যেমন কনটেন্ট রাইটিং, ব্লগিং কিংবা অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং সেক্ষেত্রে আপনাকে ইংরেজিতে খুবি দক্ষ হতে হবে।

ফ্রিল্যান্সিং কিভাবে শুরু করতে হয় বুঝতে পারছি না, একটু জানাবেন?

যারা ফ্রিল্যান্স ক্যারিয়ার গড়তে চাচ্ছেন কিন্তু ভেবে পাচ্ছেন না কিভাবে শুরু করবেন অথবা দ্বিধায় আছেন আসলেই এই ক্যারিয়ার আপনার জন্য উপযুক্র কিনা এ সকল প্রশ্নের সঠিক উত্তর পেতে ডেভসটিমের কো-ফাউন্ডার তাহের চৌধুরী সুমন একটি দিকনির্দেশনামূলক ভিডিও তৈরি করেছেন। যদি আপনি ফ্রিল্যান্স ক্যারিয়ারে আসতে চান  তবে নিচের ভিডিওটি আশা করি আপনার উপকারে আসবে।

যে কোন কাজ শুরু করতে চাইলেই সংশ্লিষ্ঠ বিষয়ে দক্ষতার প্রয়োজন সর্ব প্রথম। ফ্রিল্যান্সিং পেশায় আসতে হলেও আপনাকে যেকোন একটি ফিল্ডে দক্ষতা অর্জন করতে হবে। ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ করতে চাইলে কমিউনিকেশনেও হতে হবে পার্ফেক্ট, এক্ষেত্রে ইংরেজির দক্ষতাও লাগবে। ফ্রিল্যান্স মার্কেটপ্লেসগুলোতে পাঁচ শতাধিক ধরণের কাজ রয়েছে, পছন্দমতো যেকোনো একটিকে বেঁছে নিতে হবে আপনাকে। আর ক্যারিয়ারের ফিল্ড পছন্দের ক্ষেত্রে ঐ কাজের প্রতি আপনার আকর্ষন আছে কিনা, ক্যারিয়ার হিসেবে নিতে পারবেন কিনা, ভবিষ্যৎ কেমন হতে পারে এরকম সংশ্লিষ্ঠ কিছু বিষয় বিবেচনায় আনতে হবে। সিদ্ধান্তে আসারপর শুরু হবে মূল কাজ, স্কিল ডেভেলপমেন্ট। স্কিল ডেভেলপমেন্টের জন্য বিভিন্ন রিসোর্স থেকে শেখা যেতে পারে। অনলাইন রিসোর্স গুলো স্টেপ বাই স্টেপ পাওয়া যায়না বিধায় নতুনরা তেমন একটা সুবিধা করতে পারে না। ভালোভাবে শিখতে হলে কিংবা দ্রুত সফল হতে হলে এই সেক্টরে যারা সফল তাদের গাইডলাইন নেওয়া প্রয়োজন। যেহেতু ব্যক্তিগতভাবে ফ্রিল্যান্সারা বেশি সময় দিতে পারেন না। তাই যেসব ফ্রিল্যান্সারা প্রশিক্ষণ দেন তাদের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিতে পারেন। ভালোভাবে কাজ শেখা হয়ে গেলে অনলাইন মার্কেটপ্লেস যেমন ওডেস্ক, ফ্রিল্যান্সার, ইল্যান্সসহ এই ধরণের জনপ্রিয় সাইটগুলোতে কাজ করতে পারেন।

মনে রাখবেন, ফ্রিল্যান্সিং যতটা সহজ ভাবছেন ততটা সহজ নয়, এখানে আপনাকে আপনার দক্ষতার পাশাপাশি যোগ্যতাও প্রমাণ করতে হবে। আরও কয়েকটি গুন আপনার থাকতে হবে যেমন, পরিশ্রম করার মন মানুষিকতা, আত্মবিশ্বাস, ধৈর্যশীলতা এবং সততা। তাহলেই ভালো করা সম্ভব।

আউটসোর্সিং প্রফেশনে আসতে শুরুতে বইটি পড়ুন

এছাড়া ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে নতুনদের দিক নির্দেশনা দেওয়ার জন্য ‘ফ্রিল্যান্স ক্যারিয়ার’নামে একটি বই প্রকাশ করেছে ডেভসটিম ইনস্টিটিউট। বইটি সবার মধ্যে ছড়িয়ে দিতে ইবুক সংস্করণ প্রকাশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।  নিচে দেওয়া ডাউনলোড লিংক থেকে ডাউনলোড করে নিন বইটি।

ebook

বিনামুল্যে ডাউনলোড করুন

ধন্যবাদ সবাইকে।  হ্যাপি ফ্রিল্যান্সিং।

লিখেছেন —

তাহের চৌধুরী সুমন, কো-ফাউন্ডার ও প্রাধান নির্বাহী, ডেভসটিম লিমিটেড।